সংক্ষেপে উত্তর: মার্কিন বিদেশসচিব মার্কো রুবিও বলেছেন, আমেরিকার "কোনও দেশের সঙ্গে সম্পর্ক ভারত-এর সঙ্গে সম্পর্কের বিনিময়ে নয়"। আবার একই সঙ্গে তিনি মেনে নিয়েছেন, পরমাণু শক্তিধর পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক রাখা আমেরিকার দরকার। ভারতের আসল লাভ-ক্ষতি অবশ্য নির্ভর করছে বাণিজ্য চুক্তির উপর। দুই পক্ষই বলছে চুক্তি "খুব কাছাকাছি", কিন্তু ২৫ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত সেটা সই হয়নি। ভারতীয় পণ্যে মার্কিন শুল্ক কত, সেটাও এখন আর সোজা প্রশ্ন নয়। ১৮% ছিল ফেব্রুয়ারির কাঠামোর হার, কিন্তু পরে মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের রায়ে ছবিটা বদলে গেছে।
বাংলা সংবাদমাধ্যমে রুবিওর সফর নিয়ে খবর অনেক, কিন্তু সব টুকরো টুকরো। বেশিরভাগ বাংলা পাতা এখনও ফেব্রুয়ারির ১৮%-এর খবরটাই আবার বলছে। এই লেখায় সব এক জায়গায় রাখা হল: সময়রেখা, শুল্কের আসল অবস্থা, রাশিয়া ও ভেনেজুয়েলার তেলের হিসেব, আর ভারতের জন্য এর মানে কী।
এক নজরে: রুবিওর ভারত সফরে কী হল
- মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬: উজবেকিস্তানের সমরকন্দ হয়ে রুবিও মুম্বই পৌঁছন এবং বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠক করেন। আলোচনায় ছিল বাণিজ্য, জ্বালানি, প্রতিরক্ষা, গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি আর পশ্চিম এশিয়া। সংযুক্ত আরব আমিরশাহির বিদেশমন্ত্রী শেখ আবদুল্লাহ বিন জায়েদকে নিয়ে আঞ্চলিক জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে একটি ত্রিপাক্ষিক বৈঠকও হয়।
- ২৬/১১ স্মৃতিসৌধে মালা দেন। মার্কিন স্বাধীনতার ২৫০ বছর উপলক্ষে একটি সংবর্ধনা অনুষ্ঠানেও যোগ দেন।
- বুধবার, ২১ অক্টোবর: গুজরাতের জামনগরে রিলায়েন্সের রিফাইনারি ঘুরে দেখেন এবং অম্বানি পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন। সংবাদমাধ্যমকে সেখানে ঢুকতে দেওয়া হয়নি।
- নয়াদিল্লিতে যাননি।
- এ বছর এটা রুবিওর দ্বিতীয় ভারত সফর। প্রথমটা ছিল মে ২০২৬-এ। তখন প্রধানমন্ত্রী মোদীর সঙ্গে বৈঠক হয়েছিল, আর কোয়াড বিদেশমন্ত্রীদের বৈঠকও ছিল।
- কংগ্রেসের প্রশ্ন: বৈঠকের খুঁটিনাটি ভারতের মুখপাত্রের আগেই প্রকাশ্যে আনেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোর। এ নিয়ে জয়রাম রমেশ বিদেশ মন্ত্রকের সমালোচনা করেন, মন্ত্রকও তার জবাব দেয় (ThePrint)।
পাকিস্তান নিয়ে রুবিও কী বললেন, আর ভারতের উদ্বেগ কেন
২১ ও ২২ অক্টোবর ভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রুবিওর বার্তায় তিনটে দিক ছিল (Free Press Journal, Tribune):
- কেন পাকিস্তান: পাকিস্তান পরমাণু শক্তিধর দেশ, আর তার ভৌগোলিক অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ, তাই আমেরিকাকে তাদের সঙ্গে সম্পর্ক রাখতে হয়। তাঁর দাবি, পাকিস্তানের সঙ্গে যোগাযোগ রাখলে আমেরিকার "প্রভাব বাড়ে"।
- ভারতের জন্য আশ্বাস: "কোনও দেশের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের বিনিময়ে নয়।" সন্ত্রাসবাদ নিয়ে ভারতের উদ্বেগ আমেরিকাও ভাগ করে নেয়।
- ১৯৭১ সালে রিচার্ড নিক্সনের প্রশাসন যেভাবে পাকিস্তানের দিকে ঝুঁকেছিল, এখনকার পরিস্থিতির সঙ্গে তার তুলনা তিনি খারিজ করেছেন।
দুই দেশের সংবাদমাধ্যম একই কথা দু'ভাবে পড়েছে। পাকিস্তানি মাধ্যম শিরোনাম করেছে "আমেরিকার পাকিস্তানকে দরকার" (The Nation), আর ভারতীয় মাধ্যম জোর দিয়েছে ভারতকে দেওয়া আশ্বাসে।
পাক-মার্কিন ঘনিষ্ঠতা নিয়ে আশঙ্কা কোথা থেকে এল
২০২৫ সাল থেকে কয়েকটা ঘটনা দিল্লিকে অস্বস্তিতে ফেলেছে:
- মে ২০২৫-এর ভারত-পাক সংঘাত: ট্রাম্প বারবার দাবি করেছেন, সংঘাত থামানোর কৃতিত্ব তাঁর। ভারত কোনও তৃতীয় পক্ষের মধ্যস্থতা মানে না।
- জুন ২০২৫: ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনিরকে মধ্যাহ্নভোজে ডাকেন। একজন সেনাপ্রধানের জন্য এটা ছিল নজিরবিহীন সম্মান।
- জুলাই ২০২৫: ট্রাম্প ঘোষণা করেন, পাকিস্তানের তেলের মজুত গড়ে তুলতে আমেরিকা সাহায্য করবে।
রুবিওর দিল্লি না যাওয়া নিয়ে বিশ্লেষক মাইকেল কুগেলম্যানের মন্তব্য: "আস্থার ফাঁক সবচেয়ে বড় দিল্লিতেই।" এই এক লাইনেই বোঝা যায়, সরকারি আশ্বাস আর বাস্তবের আস্থার মধ্যে এখনও দূরত্ব রয়ে গেছে।
তাহলে ভারতের কি ক্ষতি হচ্ছে?
এখনই সরাসরি কোনও ক্ষতি চোখে পড়ছে না। চুক্তির আলোচনা শেষ পর্যায়ে, রাশিয়ার তেলে ছাড় মিলেছে, কোয়াডের মঞ্চও চালু আছে। ঝুঁকি দুটো জায়গায়। প্রথমত, সংঘাতের সময় আমেরিকা "নিরপেক্ষ মধ্যস্থতাকারী" সাজতে চাইলে ভারতের কৌশলগত অবস্থান দুর্বল হয়। দ্বিতীয়ত, পাকিস্তানকে দেওয়া যে কোনও প্রতিরক্ষা সুবিধা দিল্লির হিসেব বদলে দিতে পারে। রুবিও নিজেই বলেছেন পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক রাখা আমেরিকার "দরকার"। তাই তাঁর আশ্বাস কাজে কতটা মেলে, সেটা দেখার বিষয়।
দিল্লি নয়, গুজরাতের জামনগর কেন?
জামনগর বিশ্বের সবচেয়ে বড় শোধনাগার কমপ্লেক্স। দিনে প্রায় ১৪ লক্ষ ব্যারেল তেল শোধন হয় এখানে, যা বিশ্বের মোট শোধন ক্ষমতার প্রায় ১.৫%। কমপ্লেক্সে দুটো রিফাইনারি: দেশের বাজারের জন্য একটি (দিনে ৬.৬ লক্ষ ব্যারেল, চালু ১৯৯৯ থেকে) আর রফতানির জন্য একটি (দিনে ৫.৮ লক্ষ ব্যারেল, চালু ২০০৮ থেকে) (Al Jazeera)। তাই রুবিওর এই সফর নিছক সৌজন্যের নয়। পুরোটাই জ্বালানির হিসেব।
রাশিয়া থেকে ভেনেজুয়েলার তেলের দিকে
- ২০২২-এর আগে রিলায়েন্সের মোট তেলের মাত্র ৩% আসত রাশিয়া থেকে। ২০২৫-এ সেটা বেড়ে হয় ৫০%। জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ জামনগরে যত তেল শোধন হয়েছে, তার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ রাশিয়ার (Al Jazeera)।
- রুবিও বলেছেন, আরও বেশি ভেনেজুয়েলার অপরিশোধিত তেল শোধন নিয়ে আমেরিকা রিলায়েন্সের সঙ্গে "কথা বলবে" (CNBC, ২১ অক্টোবর)।
- Kpler-এর অনুমান, অক্টোবরে রিলায়েন্স যত তেল কিনেছে, তার মধ্যে দিনে প্রায় ৩.৫–৩.৭ লক্ষ ব্যারেল ভেনেজুয়েলার। সেপ্টেম্বরের শেষে আমেরিকার বাইরে ভেনেজুয়েলার তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা ছিল রিলায়েন্স।
- টেক্সাসের ব্রাউন্সভিলে একটি শোধনাগার প্রকল্পে রিলায়েন্স যুক্ত আছে। খরচ ৩–৪ বিলিয়ন ডলার, বছরে প্রায় ৬ কোটি ব্যারেল মার্কিন তেল শোধন হবে, চালু হতে পারে মোটামুটি ২০২৯-এ। মার্চে ট্রাম্প যে "৩০০ বিলিয়ন ডলার"-এর কথা বলেছিলেন, সেটা তাঁর নিজের দাবি। প্রকল্পের নিশ্চিত খরচ নয়।
ওয়াশিংটনের লক্ষ্য খুব সম্ভবত দুটো: ভারতকে রাশিয়ার তেল থেকে সরিয়ে বিকল্প তেলের দিকে নিয়ে যাওয়া, আর নভেম্বর ২০২৬-এর মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে আমেরিকায় ডিজেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা।
Vantara নিয়ে কী জানা গেছে?
রিলায়েন্সের বন্যপ্রাণী উদ্ধার ও সংরক্ষণ কেন্দ্র Vantara-ও জামনগরে। সোশ্যাল মিডিয়ায় এটা নিয়ে অনেক জল্পনা চলছে। কিন্তু আমরা যত প্রতিবেদন যাচাই করেছি, তার কোনওটাতেই রুবিওর Vantara সফর বা সেখানে কোনও চুক্তির খবর নেই। সংবাদমাধ্যমকে ভেতরে ঢুকতে দেওয়া হয়নি, আনুষ্ঠানিক বিবরণও প্রকাশ হয়নি। তাই "Vantara চুক্তি" নিয়ে যা ছড়াচ্ছে, তা আপাতত অসমর্থিত।
ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি: ৫০% থেকে ১৮%, তারপর আদালতের রায়
| সময় | কী ঘটল |
|---|---|
| ২০২৫-এর শুরু | বাণিজ্য চুক্তির আলোচনা শুরু হয়। |
| আগস্ট ২০২৫ | ২৫% "রেসিপ্রোকাল" শুল্কের উপর রাশিয়ার তেল কেনার জন্য আরও ২৫% জরিমানা চাপে। বেশিরভাগ ভারতীয় পণ্যে মোট শুল্ক দাঁড়ায় ৫০% পর্যন্ত। |
| ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ট্রাম্প ও মোদী চুক্তি ঘোষণা করেন। রেসিপ্রোকাল শুল্ক ২৫% থেকে কমে ১৮% হয়, তেলের জরিমানা উঠে যায়। ভারত রাশিয়ার তেল কেনা বন্ধ করবে বলে ট্রাম্প দাবি করেন, কিন্তু ভারত সেটা কখনও নিশ্চিত করেনি। |
| ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | যৌথ বিবৃতি প্রকাশিত হয় (হোয়াইট হাউস)। |
| ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট IEEPA আইনের ভিত্তিতে বসানো শুল্ক বাতিল করে। তার জায়গায় আসে সেকশন ১২২ সারচার্জ। ভারতের জন্য সাময়িক ১০% (আকাশবাণী)। |
| মার্চ ২০২৬ | ভারতের বাণিজ্যসচিব জানান, রেসিপ্রোকাল শুল্ক "আর বলবৎ নেই"। |
| মে ২০২৬ | রুবিওর প্রথম ভারত সফর। মোদীর সঙ্গে বৈঠক আর কোয়াড বৈঠক। |
| জুলাই ২০২৬ | কিছু প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেকশন ১২২ সারচার্জের মেয়াদ ২৪ জুলাই নাগাদ শেষ হয় এবং সেকশন ৩০১-এর অধীনে ১০% শুল্ক চালু হয়। সূত্রগুলো এ নিয়ে একমত নয়। |
| ২ অক্টোবর ২০২৬ | মোদী-ট্রাম্প ফোনালাপের পর USTR জেমিসন গ্রিয়ার বলেন, চুক্তি "আসন্ন নয়" (CNBC)। এর কিছু আগে অর্থমন্ত্রী সীতারামন বলেছিলেন, আলোচনা "থমকে" আছে। |
| ১৫ অক্টোবর ২০২৬ | গোয়েল জানান, প্রথম কিস্তি "চূড়ান্ত"। এখন আইনি খসড়া আর শেষ পর্যালোচনা চলছে। |
| ১৬–১৯ অক্টোবর ২০২৬ | রাশিয়া-সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা আর শুল্কে ছাড় দিয়ে এক্সিকিউটিভ অর্ডার সই করেন ট্রাম্প। রাশিয়ার তেল ও গ্যাসের ক্রেতাদের উপর জরিমানাও এর আওতায়। গ্রাহাম অ্যাক্টের অধীনে ওই জরিমানা সেই সপ্তাহেই চালু হওয়ার কথা ছিল, তাতে ভারতীয় পণ্যে ১০০% পর্যন্ত শুল্ক বসতে পারত। ছাড়ের তারিখ নিয়ে সূত্রগুলো একমত নয়। |
| ১৭ অক্টোবর ২০২৬ | প্রতিবেদনে উঠে আসে, দুগ্ধজাত পণ্যের বাজারে প্রবেশই এখন সবচেয়ে বড় বাধা। ভিয়েতনামের মতো প্রতিযোগী দেশের সমান হারে শুল্ক চায় ভারত। বাংলাদেশ ও ভিয়েতনামের হার প্রায় ২০% বলে খবর। |
| ২০–২১ অক্টোবর ২০২৬ | রুবিওর মুম্বই ও জামনগর সফর। |
| ২২ অক্টোবর ২০২৬ | জয়শঙ্কর বলেন, চুক্তি "লাস্ট মাইল"-এ। ট্রাম্প বলেন, চুক্তি "অনেকটাই কাছাকাছি"। |
তাহলে এখন শুল্ক কত?
সৎ উত্তর হল, নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। ১৮% ছিল ফেব্রুয়ারির কাঠামোর হার। কিন্তু যে আইনের (IEEPA) ভিত্তিতে ওই শুল্ক বসানো হয়েছিল, মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এই তা বাতিল করে দিয়েছে। তার পর সাময়িক ১০% সারচার্জ এসেছে, জুলাইয়ে আবার আইনি ভিত্তি বদলেছে বলে খবর, আর সূত্রগুলোর মধ্যে মিল নেই (Outlook Business, Global Trade Alert)। তাই কেউ আজকের হার "১৮%" বললে সাবধান। রফতানিকারকরা নিজের পণ্যের হার USTR বা মার্কিন কাস্টমস (CBP) থেকে যাচাই করে নিন।
ফেব্রুয়ারির কাঠামোয় ভারত মার্কিন শিল্পপণ্য আর কিছু কৃষিপণ্যে (বাদাম, ফল, সয়াবিন তেল, ওয়াইন ও স্পিরিট) শুল্ক কমাতে রাজি হয়েছিল। গোয়েলের কথায়, ভারতের মশলা, চা, কফি আর কাজু আমেরিকায় শুল্ক ছাড়াই ঢুকবে (আকাশবাণী)। দুগ্ধজাত পণ্য নিয়ে কিন্তু এখনও টানাপোড়েন চলছে। অক্টোবরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রথম কিস্তির সবচেয়ে বড় বাধা এটাই, আর ভারতের কৃষকদের কাছেও এটাই সবচেয়ে স্পর্শকাতর বিষয়। একটি সূত্রের দাবি, পাঁচ বছরে ভারত ৫০,০০০ কোটি ডলারের মার্কিন জ্বালানি, বিমান ও প্রযুক্তি কিনবে। অন্য কোনও সূত্রে এই দাবি পাওয়া যায়নি, তাই এটাকে অসমর্থিত ধরুন।
কে কী বলছেন
- রুবিও (২০ অক্টোবর): "আমরা খুব, খুবই কাছাকাছি… চুক্তি সই না করে যতটা কাছে আসা যায়, ততটাই।" অল্প কয়েকটা বিষয় বাকি, সময় লাগবে "কয়েক সপ্তাহ, কয়েক মাস নয়"। তবে আলোচনা চালাচ্ছে USTR, বিদেশ দফতর নয়। তাঁর মতে, রাশিয়ার তেলে ছাড়ের সিদ্ধান্তে বাণিজ্য আলোচনাও "একটা কারণ" ছিল (Outlook India)।
- ট্রাম্প (২২ অক্টোবর): চুক্তি "অনেকটাই কাছাকাছি", আর এটা "আলাদা রকম" হবে। কোনও খুঁটিনাটি জানাননি।
- জয়শঙ্কর (২২ অক্টোবর, NDTV World Summit): চুক্তি "লাস্ট মাইল"-এ, তবে "শেষ না হওয়া পর্যন্ত কিছুই শেষ নয়" (The Hawk)।
নতুন শুল্কের হার কত, কোন কোন পণ্য আওতায় আসবে, কবে সই হবে, এর কোনওটাই এখনও সরকারিভাবে ঘোষণা হয়নি। ২৪ ও ২৫ অক্টোবর কোনও নতুন সরকারি ঘোষণাও হয়নি।
সংখ্যায় ভারত-মার্কিন বাণিজ্য (এপ্রিল–সেপ্টেম্বর ২০২৬)
| সূচক | পরিমাণ |
|---|---|
| আমেরিকায় ভারতের রফতানি | ৫০.৮১ বিলিয়ন ডলার (১১.১% বৃদ্ধি) |
| আমেরিকা থেকে ভারতের আমদানি | ৩২.৩৩ বিলিয়ন ডলার (আগে ছিল ২৫.৬৬ বিলিয়ন) |
| ভারতের বাণিজ্য উদ্বৃত্ত | ১৮.৪৮ বিলিয়ন ডলার (আগে ছিল ২০.০৭ বিলিয়ন) |
এখান থেকে কী বোঝা যায়? শুল্ক নিয়ে এত অনিশ্চয়তার মধ্যেও ভারতের রফতানি বেড়েছে। আবার আমেরিকা থেকে আমদানি বেড়েছে আরও দ্রুত, ফলে উদ্বৃত্ত কমেছে। ট্রাম্প প্রশাসন ঠিক এটাই চায়, তাই চুক্তির আলোচনায় এই সংখ্যাগুলো ভারতের পক্ষে যুক্তি হিসেবে কাজে লাগবে।
রাশিয়ার তেল: আসল দর-কষাকষি এখানেই
চিনের পরে রাশিয়ার তেলের দ্বিতীয় বৃহত্তম ক্রেতা ভারত। CREA-র হিসেবে, ডিসেম্বর ২০২২ থেকে জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত রাশিয়ার মোট অপরিশোধিত তেল রফতানির ৩৭% গেছে ভারতে। ট্রাম্পের নতুন ছাড়ে ভারত আপাতত রাশিয়ার তেল কিনতে পারছে। কিন্তু একটি বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এই ছাড়ের কোনও মেয়াদ নেই এবং হোয়াইট হাউস যে কোনও সময় তা তুলে নিতে পারে (Discovery Alert)। নিষেধাজ্ঞা ও ছাড়ের সরকারি তথ্য পাবেন মার্কিন ট্রেজারির OFAC সাইটে। রুবিও নিজেই ছাড়ের সিদ্ধান্তের সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনাকে জুড়েছেন। তাই মনে হয়, রাশিয়ার তেল নিয়ে বোঝাপড়া চুক্তির পেছনে বড় চাপ হিসেবে থেকেই যাচ্ছে। নির্বাচনের আগে আমেরিকায় ডিজেলের দাম নিয়ে চাপও এই নমনীয়তার একটা কারণ হতে পারে।
ভারতের লাভ না ক্ষতি: একটা হিসেব
| সম্ভাব্য লাভ | সম্ভাব্য ঝুঁকি |
|---|---|
| টেক্সটাইল, চামড়া, ওষুধ, রত্ন ও গয়নার রফতানিকারকরা স্থায়ী এবং কম শুল্কের সুবিধা পেতে পারেন | রাশিয়ার তেলে ছাড় যে কোনও সময় উঠে যেতে পারে, তখন জ্বালানির খরচ বাড়বে |
| মশলা, চা, কফি আর কাজুতে শুল্কমুক্ত প্রবেশ (ফেব্রুয়ারির কাঠামো অনুযায়ী) | পাক-মার্কিন ঘনিষ্ঠতা ভারতের কৌশলগত অবস্থানে প্রভাব ফেলতে পারে |
| ভেনেজুয়েলা ও আমেরিকার তেল এলে জ্বালানির উৎসে বৈচিত্র্য আসবে | দুগ্ধজাত ও অন্যান্য কৃষিপণ্যের বাজার খুলে দেওয়ার চাপ |
| শুল্ক নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটলে শেয়ারবাজারের আস্থা বাড়বে | চুক্তির খুঁটিনাটি আর আসল শুল্কের হার এখনও অজানা |
বাজারের দিক থেকে দেখলে, শুল্ক নিয়ে অনিশ্চয়তা বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মনোভাবে বড় প্রভাব ফেলে। বিস্তারিত পড়ুন আমাদের ভারতীয় শেয়ারবাজার কেন পড়ছে বিশ্লেষণে।
অন্যান্য টানাপোড়েন, যেগুলো চুক্তির বাইরে
- H-1B ফি বৃদ্ধি: এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে ভারতীয় আইটি কর্মীদের উপর। প্রেক্ষাপট জানতে পড়ুন জেডি ভ্যান্সের H-1B মন্তব্য ও তা প্রত্যাহারের খবর।
- গ্রিন কার্ড: TCS ও Wipro যে প্রক্রিয়ায় গ্রিন কার্ডের আবেদন করত, তার উপর বিধিনিষেধ এসেছে। অপেক্ষার সময় জানতে দেখুন নভেম্বরের ভিসা বুলেটিন: ভারতের EB2/EB3।
- মধ্যস্থতার দাবি: মে ২০২৫-এর সংঘাত থামানো নিয়ে ট্রাম্পের দাবি এখনও দিল্লির কাছে স্পর্শকাতর।
এরপর কী দেখবেন
- প্রথম কিস্তি সইয়ের তারিখ: সরকারি তারিখ এখনও নেই। রুবিও বলেছেন "কয়েক সপ্তাহ"। ২৪ অক্টোবর একটি শিরোনামে প্রথম কিস্তি "শেষের পথে" বলে দাবি করা হয়েছিল, কিন্তু আমরা তা যাচাই করতে পারিনি।
- শুল্কের হার: চুক্তিতে কত হার লেখা থাকে, আর সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর সেটা কোন আইনের ভিত্তিতে বসানো হয়।
- দুগ্ধজাত পণ্য: শেষ বড় বাধাটা কীভাবে মেটে।
- রাশিয়ার তেলে ছাড়: ছাড় বহাল থাকে, নাকি তুলে নেওয়া হয়।
- পাকিস্তান প্রসঙ্গ: আমেরিকা পাকিস্তানকে নতুন কোনও প্রতিরক্ষা বা জ্বালানি সুবিধা দেয় কি না।
মোদী-ট্রাম্প বৈঠক নিয়ে কিছু জল্পনা আছে, কিন্তু কোনওটাই আমরা যাচাই করতে পারিনি, তাই এখানে রাখছি না। ভারতের দিকের সরকারি বিবৃতি পাবেন বিদেশ মন্ত্রকের প্রেস রিলিজ, বাণিজ্য মন্ত্রক আর PIB-তে। এই খবরের পরের আপডেট আর অন্যান্য ট্রেন্ডিং বিষয়ের সহজ ব্যাখ্যা পাবেন KyunTrend-এর হোমপেজে।
সূত্র
- হোয়াইট হাউস: ফেব্রুয়ারির চুক্তির ফ্যাক্ট শিট
- USTR: India
- আকাশবাণী: রুবিওর সফর, ২০ অক্টোবর
- Fortune/AP, ২০ অক্টোবর
- Al Jazeera: জামনগর
Spotted an error? Write to contact@arsachdeva.com and we'll correct it.